হাইকোর্টের নির্দেশে মাথার উপর ছাদ ফিরে পেলেন বাঁকুড়া বৃদ্ধ দম্পতি
দি নিউজ লায়ন; ছেলে ও পুত্রবধূর অত্যাচারে বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল। ভাবতে পারেননি নিজের কষ্টে তৈরী বাড়িতে আর কোনোদিন ফিরতে পারবেন। অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মাথার উপর ছাদ ফিরে পেলেন বাঁকুড়ার স্কুলডাঙ্গার অশিতিপর বৃদ্ধ দম্পতি বুরহান আলি ও মুমতাজ বেগম। পুলিশের তত্বাবধানে আজ বাড়িতে ফিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন ওই দম্পতি।
বুরহান আলি একসময় বাঁকুড়া জেলা পরিষদের কর্মী ছিলেন। স্ত্রী মুমতাজ বেগম ছিলেন বাঁকুড়ার এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের কর্মী। কষ্ট করে ছেলে আসমান আলিকে পড়াশোনা করিয়ে বড় করেছিলেন। বড় হওয়ার পর বিয়েও দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর থেকেই শুরু হয় সমস্যা। অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী বৃদ্ধ বাবা ও মা এর উপর শুরু হয় অত্যাচার। কষ্টে বড় করে তোলা ছেলে ও তার স্ত্রী ক্রমাগত বৃদ্ধ দম্পতিকে বাড়ি ছাড়া করার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ ।
বাড়ি না ছাড়ায় দম্পতির উপর শুরু হয় অত্যাচার। বাড়িতে জলের লাইন কেটে দেওয়া হয়। বৃদ্ধ দম্পতিকে শৌচাগার ব্যবহার করতে বাধা দেওয়া হয়। বৃদ্ধ বাবা ও মা বাড়িতে থাকলে মেরে ফেলার হুমকীও মেলে বলে অভিযোগ। এরপরই বাধ্য হয়ে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন বৃদ্ধ দম্পতি। শেষমেশ আশ্রয় মেলে পুরুলিয়ায় মেয়ের শ্বসুরবাড়িতে। সেখানে থেকেই ছেলে ও পুত্রবধূকে শবক শেখানোর লড়াই শুরু করেন বৃদ্ধ দম্পতি।
বাঁকুড়া সদর থানার পাশাপাশি তাঁরা দ্বারস্থ হন কলকাতা হাইকোর্টের। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মন্থা ছেলে ও পুত্রবধূকে বাড়ি থেকে বের করে বৃদ্ধ দম্পতিকে নিজের বাড়িতে ফেরানোর জন্য বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন। সেই মোতাবেক বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ ছেলে ও পুত্রবধূকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেয়। নোটিশ পেতেই ছেলে ও পুত্রবধূ বাড়ি ছাড়লে আজ বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ বৃদ্ধ দম্পতিকে তাঁদের নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে দেয়।
বাড়িতে নজর রাখার জন্য মোতায়েন করা হয় পুলিশও। বৃদ্ধ বয়সে দেড় বছর ধরে বাড়ি ছাড়া থাকার পর নিজের মাথার ছাদ ফিরে পাওয়ায় চোখে মুখে স্বস্তির ছাপ বৃদ্ধ দম্পতির। বাড়িতে ফিরে বুরহান আলি বলেন, এভাবে কোনোদিন আবার নিজের বাড়িতে ফিরে আসতে পারব ভাবিনি । আদালতের নির্দেশে বাড়ি ফিরতে পেরে ভালো লাগছে । বাবা মা কে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে দিতে পেরে খুশি মেয়ে শম্পা বেগম। তিনি বলেন, হাইকোর্টের এই নির্দেশ নিঃসন্দেহে দৃষ্টান্তমূলক। আগামীদিনে কোনো ছেলে পুত্রবধূ বাবা মা এর উপর এমন অত্যাচার করতে রীতিমত ভয় পাবে ।

Post a Comment